বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

News Headline :
উন্নয়ন ও শান্তিতে থাকতে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানালেন সাবেক এমপি আশু তালায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত জনগণ সুযোগ দিলে দুর্নীতি নির্মূলে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো: এমপি প্রার্থী রবিউল বাশার শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শ্যামনগরে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শিশু ও যুবদের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদকের সুস্থ্যতা কামনায় তালা রিপোর্টার্স ক্লাব দলিতের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বিতরণ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে “ ব্লু কার্বন” প্রকল্পের লার্নিং ও সভা সুন্দরবনে মৎসজীবিদের জন্য টেকসই মৎসসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ব্লু কার্বন প্রতিবেশ বিষয়ে শেয়ারিং সভা

ঈদে মাংস খাওয়ার আনন্দে স্বাস্থ্যহানি নয়: চিকিৎসকরা দিচ্ছেন সচেতনতার পরামর্শ

আহসানুর রহমান রাজীব: ঈদুল আজহা মুসলমানদের জন্য এক পবিত্র ও আবেগঘন উৎসব। এদিন কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের মহান শিক্ষা যেমন চর্চা করা হয়, তেমনি প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া হয় আনন্দ ও ভালোবাসা।
কোরবানির পশু জবাইয়ের পরপরই শুরু হয় ঘরোয়া কর্মব্যস্ততা—মাংস কাটা, ধোয়া, ভাগ করে দেওয়ার আয়োজন, তারপর শুরু হয় রান্নার ধুম। পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি দূরের বন্ধুবান্ধবের মাঝেও চলে মাংস বিনিময়ের চিত্র।

ঈদের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে রেজালা, ভুনা, কাবাব, হাড়ি ভর্তা কিংবা কাঁচা মরিচ-মসলা দেওয়া গরুর মাংসের সুগন্ধ। অনেক বাড়িতে দিনে তিন বেলার খাবারেই মাংসের পদই থাকে প্রধান। রান্না হয় ঘিয়ে কিংবা সরিষার তেলে, দেয়া হয় নানা রকম মসলা, যা খেতে হয়তো মুখরোচক, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে শরীরের উপর চাপ পড়ে।

ঈদের আনন্দে এই মাংস খাওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক সময় হয়ে পড়ে অনিয়ন্ত্রিত। কেউ কেউ এক বেলায় তিন-চার রকমের মাংসের পদ খেয়ে ফেলেন, আবার একাধিকবার খাবার খাওয়ারও রেওয়াজ আছে। অনেকে দিনের বেশিরভাগ সময়ই খাবার টেবিলে কাটান।

এই আবহে সবারই মনে থাকে না যে, আমাদের শরীরেরও একটা সীমা আছে। যকৃত, কিডনি বা হজমতন্ত্র এত তেল-ঝাল, প্রোটিন এবং অতিরিক্ত খাদ্য একসঙ্গে নিতে পারে না। ফলে ঈদের ঠিক পরদিন থেকেই অনেকের পেটে গ্যাস, বমিভাব, ডায়রিয়া, কিংবা হঠাৎ প্রেসার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।

অর্থাৎ, আনন্দঘন এই পরিবেশই কখনো কখনো রূপ নেয় অসুস্থতার উদ্বেগে। অথচ সামান্য সচেতনতা এবং পরিমিত আহারেই ঈদের আনন্দ হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী ও সুস্থতাময়।

অতিরিক্ত মাংস খেলে কী হতে পারে?

চিকিৎসকদের মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খাওয়ার কারণে অনেকেই হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, অ্যাসিডিটি, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং এমনকি হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিল অবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে যাদের বয়স বেশি, ওজন বেশি, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা হৃদরোগ রয়েছে তাদের জন্য এই সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ শামীম হোসেন বলেন, “ঈদের সময় অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা মাংস খেয়ে ফেলেন। আবার দিনে একাধিকবার খাওয়ার কারণে হজমে সমস্যা হয়। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।” কতটুকু মাংস খাওয়া উচিত? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুষ্টিবিদদের মতে, দৈনিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ৯৫-১০০ গ্রাম লাল মাংস যথেষ্ট। সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি এবং লেবু, দই বা টক দই খাওয়া উচিত, যাতে হজম সহজ হয়।”

ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করবেন কীভাবে?
ঈদের সময় সাধারণত কোরবানির মাংস একসঙ্গে অনেক পরিমাণে বাড়িতে আসে। সব মাংস একসাথে রান্না করা বা খাওয়া সম্ভব নয়, তাই সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসক ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মাংস থেকে ব্যাকটেরিয়া, দুর্গন্ধ, এমনকি ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি থাকে।

সঠিক সংরক্ষণে করণীয়:
কোরবানির পরপরই মাংস ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
প্রতিটি অংশ আলাদা প্লাস্টিক ব্যাগ বা বক্সে প্যাকেট করে ফ্রিজে রাখুন।
দ্রুত ব্যবহারের জন্য চাহিদা অনুযায়ী কিছু অংশ রেফ্রিজারেটরে এবং বাকি অংশ ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
৩-৪ মাসের মধ্যে সংরক্ষিত মাংস খেয়ে ফেলা উত্তম।
পুনঃবার বার মাংস ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করা ও আবার সংরক্ষণ করা উচিত নয়।

বাচ্চা ও বৃদ্ধদের জন্য আলাদা যত্ন দরকার
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ছোট শিশু ও বয়স্কদের জন্য বেশি তেল-মসলা দিয়ে রান্না করা মাংস নয়, বরং হালকা ঝোল কিংবা সেদ্ধ মাংস খাওয়ানো উচিত। তাতে হজম সহজ হবে এবং শরীরের ওপর চাপ কম পড়বে।

ঈদ মানেই উৎসব, আনন্দ আর ভোজন। তবে এই আনন্দে শরীরের প্রতি অবহেলা নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, পরিমিত মাংস খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, এবং নিয়মিত হাঁটা এই কয়েকটি অভ্যাস ঈদের আনন্দকে সুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘায়িত করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Hostitbd.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com